তামিলনাড়ুতে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ৫০

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

ঢাকা অফিস \ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক ৫০ জনকে পুলিশি পাহারায় ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আটককৃতরা তামিলনাড়ুর সালেম জেলার আত্তুর তালুক কার্যালয় ভবনের ভেতরের একটি বিশেষ আটক কেন্দ্রে বন্দি ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল শুক্রবার তাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনটি পুলিশ ভ্যানে করে তিরুচিরাপল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বিশেষ বগিতে তাদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেয় সালেম আর্মড রিজার্ভ পুলিশের ডিএসপি শক্তিভেলের নেতৃত্বে ৪০ জনের সশস্ত্র পুলিশের একটি দল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর পর রাজ্য পুলিশ উপস্থিতিতে তাদের হরিদাসপুর (পেট্রাপোল) স্থল সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেবে তামিলনাড়ু পুলিশ। এরপর বিএসএফ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের আইনি প্রক্রিয়া চলার সময় রাখার জন্য ওই বিশেষ আটক কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে এখনও ১৩০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া বা পরিচয় যাচাই ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বাঙালিদের, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং রাজ্য থেকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’দের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ করার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তার বক্তব্য, যারা ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় পড়েন না, তারা ‘পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন, তারা ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। ফলে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতায় পড়েন না। শুভেন্দুর এই ঘেষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী কথিত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক অভিযান চলছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জেলায় জেলায় গড়ে তোলা ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এসব ব্যক্তিকে যথাযথ যাচাই ছাড়া প্রবেশ করতে না দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত ‘শূন্যরেখা’ বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে বহু মানুষ মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এটি বন্ধে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে।