কুষ্টিয়ার খাজানগরে দুটি রাইস মিল ঘিরে জামায়াত নারী কর্মীদের বিক্ষোভ

পরিবেশ দূষণ নাকি চক্রান্ত ?

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

হাসানুজ্জামান রাজীব \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর বাণিজ্যিক এলাকায় দুটি রাইস মিল ঘিরে বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ঝাড়ু ও লাঠি নিয়ে মিলের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন তারা। একপর্যায়ে মিল বন্ধ করে দেওয়ার মতো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গরিবে নেওয়াজ রাইস এজেন্সির মালিক মিজানুর রহমান জানান, “সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন মহিলা হুট করে অফিসে ঢুকে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন, আপনারা বের হন না কেন?

পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের মিল পরিদর্শন করে সবকিছু ঠিকঠাক পেয়েছে। তারপরও তারা আমাদের হয়রানি করছে।” তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় শ্রমিকরা ভয়ে পালিয়ে যায় এবং ১২০০ মণ ধান সিদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাঁর অভিযোগ, এটি দুটি মিলকে টার্গেট করে শিল্প এলাকা ধ্বংসের চক্রান্ত। জাহিদ অটো রাইস মিলের মালিক জাহিদ বলেন, “আমাদের সাইক্লোন, এয়ার লক, ফিল্টারসহ সব দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। কয়েকদিন আগে জমি কেনার সময় জামায়াতের কিছু লোক ৩ হাত জমি দাবি করে হুমকি দিয়েছিল। না দিলে মিল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি। আমি পরিবেশ অধিদপ্তরের পুনরায় পরিদর্শন চাই। সমস্যা পেলে মিল বন্ধ করে দেব।” সনি এ্যাগ্রো ফুডের মালিক শামীম জানান, “সমস্যা হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। হুট করে শতাধিক নারীর অতর্কিত ঘেরাওয়ে উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে।” অন্যদিকে, জামায়াত নেত্রী লাভলী বলেন, “ছাই ও ধুলাবালুর কারণে এলাকায় বসবাস করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বর্জ্য জিকে খালে ফেলা হয়। জানালা খুলে বসা বা পানি খাওয়াও কষ্টকর।” আরেক নেত্রী জাকিয়া আক্তার বলেন, “আমরা কোনো মিল বন্ধ চাই না, শুধু পরিবেশ সুন্দর রাখতে চাই।” স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিলের বর্জ্য নিয়ে দূষণ সমস্যা চলছে। তবে মালিকপক্ষ দাবি করেন, প্রয়োজনীয় পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ঘেরাওয়ের কিছুক্ষণ উত্তেজনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, শিল্প ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে সমস্যা সমাধান করাই এখন জরুরি।