নিজ সংবাদ \ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় আবৃত্তি, নজরুলসংগীত ও নৃত্য—এই তিন বিভাগে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

কণ্ঠে বিদ্রোহের গান, পায়ে তালে নৃত্য আর আবেগঘন আবৃত্তির মাধ্যমে শিশু-কিশোররা তুলে ধরে জাতীয় কবির প্রেম, বিদ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু হুমাইরা আদিবা বলে, “আমি আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। নজরুলের কবিতা আমার খুব প্রিয়, অনেকগুলোই মুখস্থ।” নৃত্য পরিবেশনকারী আইতুন জান্নাত জানায়, “নজরুলের গান ও কবিতা সবার মন ছুঁয়ে যায়।” সমৃদ্ধি পোদ্দার ও জয়শ্রীও নৃত্যে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছে, “পরিবেশটা খুব ভালো লেগেছে।” অভিভাবকরা সন্তানদের এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ দেখে আনন্দিত। মাসুদুর রহমান বলেন, “আমার সন্তান কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশে সহায়ক। মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এসব আয়োজন আরও বেশি হওয়া উচিত।” আরেক অভিভাবক জানান, এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুরা নজরুলের চরিত্র ও দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করবে। বিচারক শাহরিয়ার বাদল বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে নজরুল চর্চা বাড়ছে। আজ অনেকেই ভালো করেছে।” বিচারক উপমা জানান, “পরীক্ষার কারণে কিছু শিক্ষার্থী আসতে পারেনি, তবু যারা এসেছে তাদের আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে।” বিচারক সনি চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে এ বছরব্যাপী নজরুল বর্ষ পালিত হচ্ছে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। নজরুল দর্শনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব চর্চায় পরিণত করার প্রত্যাশা সকলের।
