কুমারখালীর বাগুলাটের নিতাইলপাড়ায় অপসারণ হয়নি বাতাসে পড়া গাছ

জলাবদ্ধতার শঙ্কায় কৃষক

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ প্রায় একমাস আগে হালকা বাতাসে হঠাৎ অর্ধশত বছর বয়সি বটগাছটি উপড়ে খালের ভিতরে ও সড়কের ওপরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সড়কের ওপর থেকে ডালপালা কেটে দেন। তবে সরকারি সড়কের গাছ হওয়ায় খালের ভিতরের অংশের ডালপালা এখনও অপসারণ হয়নি। ফলে পানিপ্রবাহে বাধা হয়ে চারটি বিলের প্রায় ৯০০ বিঘা কৃষি জমি জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। গাছটি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নিতাইলপাড়া পুরাতন ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত। কৃষকদের ভাষ্য, গাছ পড়ে ব্রিজের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। মাঠ ও খালে বাড়ছে পানি। পাট কাটা শুরু হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই খালের পানিতে পাট পঁচানো হবে। ফলে সকল ময়লা- আবর্জনা এসে সব গাছের সঙ্গে বেধে চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। দ্রুত উপড়ে পড়া বটগাছটি অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের চাপড়া থেকে বাগুলাট ইউনিয়নের চরপাড়া, নিতাইলপাড়া, দমদমা, মধুপুর, নাতুড়িয়া ডাকুয়া নদী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার জিকে ড্রেনেজ খাল রয়েছে। খালটির নিতাইলপাড়া এলাকায় একটি পুরাতন ব্রিজ আছে। ব্রিজের পশ্চিমপাশে অর্ধশত বছর বয়সি একটি বটগাছ ছিল। গত ২৭ মে সকালে হালকা বাতাসে হঠাৎ বটগাছটি উপড়ে সড়ক ও খালের ভিতরে পড়ে যায়। এতে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সড়কের ওপর থেকে গাছটির ডালপালা কেটে ফেলেন স্থানীয়রা। তবে সরকারি গাছ হওয়ায় খালের ভিতরের ডালপালা না কেটে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানান তাঁরা। তবে প্রায় একমাসেও গাছ অপসারণ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার চৌরঙ্গীবাজার- বাঁশগ্রাম বাজার সড়কে নিতাইলপাড়া পুরাতন ব্রিজ অবস্থিত। ব্রিজ এলাকায় বেশকিছু দোকানপাট রয়েছে। ব্রিজের পশ্চিমপাশে অবস্থিত বটগাছটি উপড়ে রয়েছে। তার বেশকিছু ডালপালা রয়েছে খালের ভিতরে । এছাড়াও কিছু কাটা ডালপালাও রয়েছে খালের ভিতরে। এতে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে ব্রিজের পানিপ্রবাহের পথ। এ সময় স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গাছ পড়ে ব্রিজের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। মাঠের পানি বের না হলে নজুরো বিল, পাতোঁগাড়া, ঠাকুরগাঁড়া ও বড়ঘাট নামের চার বিলের প্রায় ৮০০ – ৯০০ বিঘা জমি তলা যাবে। গাছটা চুয়া (পরিস্কার) করতি পারলেই পানি বেরু যাবে। ঠাকুরগাঁড়া বিলে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ধান ও পাট চাষাবাদ করেন নিতাইলপাড়া গ্রামের আসাদ আলীর ছেলে মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষায় খালে খুব স্রোত হয়। তখন এমনিতেই পানি বের হতে চায়না। এবার গাছ পড়ে মুখ বন্ধ হয়ে আছে। গাছ কাটা না হলে ৮০০ – ৯০০ বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে যাবে। নিতাইলপাড়া এলাকা ব্রিজ এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফিরোজ বলেন, মাসখানেক আগে গাছটা পড়ে রাস্তাঘাট সব বন্ধ হয়ে গিছিল। পরে সবাই মিলে রাস্তা ক্লিয়ার ( পরিস্কার) করা হলো। কিন্তু সরকারি গাছ বলে ভয়ে সম্পূর্ণ গাছ আর কাটা হয়নি। এখন জলদি গাছ না কাটা হলে পানিতে মাঠ ভাসে ( ভেসে) যাবে। নুর ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, গাছটি অপসারণের জন্য মৌখিকভাবে মেম্বর, চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু একমাসেও গাছটি সরানে হয়নি। এতে জলাবদ্ধতার শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। দ্রুত গাছটি অপসারণের দাবি জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, বিষয়টি জানা ছিলো না। জনস্বার্থে খুব দ্রুতই স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গাছটিকে অপসারণ করা হবে।