আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারের নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার সনদ ছাড়া গরু কেনাবেচা নিষিদ্ধ করায় বড় ধাক্কা খেয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। বিশেষ করে ঈদুল আজহার আগে এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন হিন্দু গরু পালনকারী ও মুসলিম ক্রেতারা।
গত ১৩ মে রাজ্য সরকার এই নির্দেশিকা জারি করার পর থেকেই বিভিন্ন পশুর হাটে স্থবিরতা নেমে আসে। বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের নেতা ইউনুস আলীও স্বীকার করেছেন, সিদ্ধান্তটি দলকে রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে। তার ভাষ্য, পশ্চিমবঙ্গে মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গরু পালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরে সেই গরু মুসলিম ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়। ফলে এই অর্থনৈতিক চক্রে হস্তক্ষেপ করে সরকার বাস্তব পরিস্থিতি ঠিকভাবে বিবেচনা করেনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, খামারিরা যদি লোকসানের কারণে গরু পালন বন্ধ করে দেন, তবে দুধ, দই, ছানা ও মিষ্টির বাজারেও বড় সংকট তৈরি হবে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিজেপিকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে এর প্রভাব পড়েছে সব ধর্মের দরিদ্র মানুষের ওপর।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারত প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার মাংস রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিচ্ছে। তাহলে সাধারণ মানুষের জীবিকা বন্ধ করার চেষ্টা কেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় খামারিদের ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদে গরু বিক্রির টাকায় তারা ঋণ পরিশোধ করেন। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন। তবে বিজেপি নেতারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা হবে।
