নীতির উপর অটল থেকেছি, সমঝোতা করলে আরামে থাকা যেতো: আসিফ

নিজ সংবাদ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, তিনি নীতির উপর অটল থাকায় বারবার হয়রানি ও চরিত্রহননের শিকার হয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, “নীতির উপর অটল থেকেছি। শক্তিশালী প্লেয়ারদের সাথে সমঝোতা করে ফেললেই খুব আরামে থাকা যেতো। কেউ জ্বালাতন করতো না, বরং তারাই দায়িত্ব নিয়ে আমি কোনো অপকর্ম করলেও তা ধামাচাপ দিতো। নিত্য দিন চোথা পাঠিয়ে নিউজ করে চরিত্রহনন করতো না।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো মানুষ এসেও খারাপ হয়ে যায় ঠিক এই কারণেই। শক্তিধরদের সাথে সমঝোতা না করে, তাদের এজেন্ডায় পরিচালিত না হয়ে এখানে বেঁচে থাকাও কঠিন।” আসিফ মাহমুদ কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন—যদি তিনি সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে শপথ পড়তেন, খুনি ও ফাঁসির আসামি শেখ হাসিনাকে সেলিব্রেট করা সাকিব আল হাসানকে দেশে নিয়ে আসতেন, শাপলা চত্বর ও মোদি বিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি না দিতেন, বিসিবিতে অবৈধ সিন্ডিকেট কমিটি বসাতেন—তাহলে আজ এই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

তিনি তার সহযোগী মোয়াজ্জেমের উদাহরণ টেনে বলেন, ১১ মাসের অনুসন্ধানে দুদক কোনো প্রমাণ না পেয়ে তাকে নিষ্পত্তি দিয়েছে। কিন্তু এই সময়ে হাজার হাজার নিউজ ও ন্যারেটিভ ছড়িয়ে তার ও তার পরিবারের জীবন দুঃসহ করে তোলা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারেননি।

প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “এই দেশে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করে প্রমাণ ছাড়াই জেলবন্দি করা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে হয়তো জেলেই হারাতাম তাকে।”

তিনি মিডিয়া ট্রায়াল ও গোয়েবলসীয় কৌশলের সমালোচনা করে বলেন, প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা ন্যারেটিভ ছড়িয়ে কাউকে নিপীড়ন করা এখানে বৈধতা পেয়ে যায়।