আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের নাগরিকদের ওই এলাকা ত্যাগ করার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদানায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেল থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানিয়েছে, “নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আদানার কনস্যুলেট জেনারেল থেকে অ-জরুরি সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।”
একই সঙ্গে ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়েছে, “তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের এখনই এলাকাটি ত্যাগ করার জন্য জোরালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” এই সতর্কতা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে সাম্প্রতিক ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত বুধবার ইরান থেকে তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করে আঙ্কারা। তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। আদানায় অবস্থিত ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন কনস্যুলেট অবস্থিত হওয়ায় এই ঘটনা ওই কনস্যুলেটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তুরস্ক-ইরান সীমান্তবর্তী দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ন্যাটো মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে। তবে এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। আদানার কনস্যুলেটের সীমিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।