আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-নীতিকে ফ্লোরিডার অস্থির আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার দাবি করলেও মাত্র একদিন পরেই তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। চতুর্থ সপ্তাহে পৌঁছানো এ যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে এখন চারটি প্রধান পথ—আলোচনা, একতরফা বিজয় ঘোষণা, বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা অথবা সংঘাত তীব্র করা। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো পথই সুনিশ্চিত সমাপ্তি নিশ্চিত করে না।
আলোচনার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মিলিশিয়া সমর্থন বন্ধ চায়, আর ইরান চায় ক্ষতিপূরণ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন ঘাঁটি সরানো। দ্বিতীয় পথ—বিজয় ঘোষণা করে সরে আসা। উপদেষ্টারা বলছেন ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু হরমুজ বন্ধ রাখলে ও ইসরায়েলে হামলা চালালে এ ঘোষণা অর্থহীন হবে।
তৃতীয় পথ—বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়া। কট্টরপন্থীরা আশা করেন তেহরানের সরকার পতন হবে, কিন্তু ইরান গেরিলা যুদ্ধ করে হরমুজ অচল রাখতে পারে—যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংস করবে। চতুর্থ পথ সবচেয়ে ভয়াবহ: বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, খারগ দ্বীপ দখল ও ইউরেনিয়াম জব্দ। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ প্রস্তাব করেছেন, কিন্তু ইরান পাল্টা হামলায় প্রতিবেশী দেশের বিদ্যুৎ-পানি শোধনাগার ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে।
গত ১৮ মার্চ কাতারের এলএনজি প্লান্টে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বৈশ্বিক সরবরাহের ৩ শতাংশ বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ইকোনমিস্ট বলছে, যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু সম্মানজনকভাবে শেষ করাই ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো বিকল্পই স্থিতিশীল শান্তি দিতে পারছে না।