নিজ সংবাদ:
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সুবিধা পাবেন মোট ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৮ জন কৃষক। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে অর্থ বিভাগ পুরো টাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে দিয়ে দেবে। পরে ব্যাংকগুলো টাকা পাবে। তবে তার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ। শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকরা এ সুবিধা পাবেন।
মওকুফের আওতায় ১৫টি ব্যাংক রয়েছে—রাষ্ট্রমালিকানাধীন ৮টি (কৃষি ব্যাংক, রাকাব, সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও আনসার-ভিডিপি) এবং বেসরকারি ৭টি (ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ, ব্র্যাক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা, ইউনিয়ন ও ন্যাশনাল ব্যাংক)। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৭ জন কৃষকের জন্য ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাবে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৪৫১ জন কৃষকের জন্য ৩৯ লাখ টাকা পাবে।
অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, মওকুফের আসল ৯১৭ কোটি এবং সুদ ৭৮২ কোটি টাকা। অনিশ্চিত সুদের ১৩৮ কোটি টাকা বাদ রাখা হয়েছে। সাতটি ব্যাংকের মামলার আইনি খরচ বাবদ ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা সরকার বহন করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এ সিদ্ধান্ত কৃষকের আর্থিক চাপ কমাবে। তবে টেকসই সহায়তা, ন্যায্যমূল্য, ফসল বিমা ও সহজ পুনঃঅর্থায়নের মতো কাঠামোগত সংস্কার দরকার।